ঢাকা , রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ , ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশ্চিমবঙ্গে প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত দার্জিলিং

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২১-০৬-২০২৬ ০১:৩৩:৩১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২১-০৬-২০২৬ ০১:৩৩:৩১ অপরাহ্ন
পশ্চিমবঙ্গে প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত দার্জিলিং ছবি : সংগৃহীত
টানা কয়েক দিনের অতি ভারী বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তরবঙ্গ। পাহাড় থেকে সমতল সর্বত্রই দুর্যোগের ছাপ স্পষ্ট। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের জেরে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তিস্তা, মহানন্দা, তোর্সা, জলঢাকা, রায়ডাকসহ একাধিক নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। বিভিন্ন জায়গায় ধস, রাস্তা ভেঙে যাওয়া, সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং জল জমে জনজীবন ব্যাহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা থাকায় প্রশাসনের চিন্তা আরও বেড়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে পাহাড়ে। দার্জিলিং, কালিম্পং ও সিকিম সংলগ্ন এলাকায় লাগাতার বর্ষণে একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে। শিলিগুড়ি-মিরিক সড়কে বালাসন নদীর উপর বিকল্প সেতু ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত থমকে গিয়েছে। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। জাতীয় সড়কের কিছু অংশেও ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াত ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে পর্যটন শিল্পেও। পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে বহু পর্যটক মাঝপথে সমস্যায় পড়েছেন। মিরিক ও দার্জিলিংয়ের বিভিন্ন এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। কয়েকটি রুটে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়ানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে পর্যটকদের।

অন্যদিকে সমতলেও পরিস্থিতি সুখকর নয়। শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের একাধিক নিচু এলাকায় জল জমেছে। বহু এলাকায় বাড়িঘরে জল ঢুকেছে। কৃষিজমিতে জল দাঁড়িয়ে থাকায় ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাজার ও স্বাভাবিক জনজীবনও ব্যাহত হচ্ছে। নদীগুলির জলস্তর বাড়তে থাকায় বন্যার আশঙ্কাও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে সেচ দপ্তর। তিস্তা নদী সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দোমহনী থেকে সীমান্তবর্তী অঞ্চল পর্যন্ত নদীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জলস্তর আরও বাড়লে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে ঘুরতে আসা পর্যটকদের সহায়তার জন্য পর্যটন দফতরের পক্ষ থেকে বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। চালু করা হয়েছে ২৪ ঘণ্টার জরুরি সহায়তা নম্বরও। প্রয়োজন হলে উদ্ধারকাজে অতিরিক্ত দল নামানোর প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং পাহাড়ে লাগাতার প্রবল বর্ষণের জেরেই উত্তরবঙ্গে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেচ আধিকারিক গৌতম রায় বলেন, প্রতিটি বড় নদীর উপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি খারাপ হলে দ্রুত সতর্কতা জারি করা হবে। শিলিগুড়ির পর্যটন ব্যবসায়ী শান্তনু দত্তের কথায়, বর্ষায় পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে বহু পর্যটক আসেন। তবে এই মুহূর্তে নিরাপত্তাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলাই সবচেয়ে জরুরি। দুর্যোগ এখনও পূর্ণ মাত্রার বন্যার রূপ না নিলেও উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় সতর্কতার আবহ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এখন নজর রাখছেন আকাশ ও নদীর গতিবিধির দিকে।

বাংলাস্কুপ/ ডেস্ক/ এনআইএন
 


 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ